Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রকল্প

মানব উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রকল্প-২

ক্ষমানব সম্পদ উন্নয়নে ‘‘মানব উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রকল্প-২’’

 

পটভূমিঃদেশে বয়স্ক শিক্ষার হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে১৯৯১ সালে সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরঅধীনে ‘‘সমন্বিত উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বিসত্মার কার্যক্রম (INFEP)’’ নামে একটি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাসত্মবায়নের লক্ষ্যে ১৯৯২ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ নামে একটি পৃথক বিভাগ সৃষ্টি করা হয়। এরপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের তত্ত্বাবধানে ইনফেপ প্রকল্প বাসত্মবায়িত হতে থাকে। ৩ বছর মেয়াদী ইনফেপ প্রকল্পের মাধ্যমে ১.৬৭ মিলিয়ন নিরক্ষরকে সাক্ষর করার লক্ষ্য থাকলেও শেষ পর্যমত্ম এ প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ্য মাত্রার অধিক অর্থাৎ ২.৪৭ মিলিয়ননিরক্ষরকে সাক্ষর করা সম্ভব হয়। ইনফেপ প্রকল্পের এই অভুতপূর্ব সাফল্যের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন দাতা সংস্থা এ ক্ষেত্রে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করে। জাতীয় পর্যায়েও দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। এর পাশাপাশি সরকার বিভিন্ন আমত্মর্জাতিক ফোরামে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়। এ উপলব্ধি থেকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার স্থায়ী অবকাঠামো সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের অধীনে ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫ তারিখে ইনফেপ দপ্তরকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরে রূপামত্মর করে। দেশে প্রাথমিক ও গণশিক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদার গুরম্নত্ব অনুধাবন করে সরকার ২ জানুয়ারী ২০০৩ তারিখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে রূপামত্মর করে।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে বে-সরকারি সংস্থার সহযোগিতায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রকল্প- ১, ২ ও ৩ এবং জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রকল্প-৪ (টিএলএম) বাসত্মবায়ন করা হয়। উলিস্নখিত প্রকল্প ৪টির মাধ্যমে সারা দেশের ১,৭৮,০৭,৭৭৫ জন নিরক্ষর নারী-পুরম্নষকে মৌলিক সাক্ষরতার আওতায় আনা হয়। এ সকল নব্য সাক্ষরদের সাক্ষরতার চর্চা অব্যাহত রাখার জন্য সারা দেশে ৯৩৫টি গ্রাম শিক্ষা মিলন কেন্দ্র পরিচালনা করা হয়।

 

১ নভেম্বর ২০০৩ তারিখ হতে সরকার উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে অকার্যকর ঘোষণা করে। এরপর সরকার ১৭ এপ্রিল ২০০৫ তারিখে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীতে সরকার ২ জানুয়ারী ২০০৬ তারিখে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা নীতি জারী করে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা নীতিমালা অনুযায়ী উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সেক্টরের এপেক্স বডি হিসাবে কাজ করবে।

বিভিন্ন সমীক্ষা, কর্মশালা, সেমিনার, প্রতিবেদন ও মতবিনিময় সভা হতে প্রতীয়মান হয় যে, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম যুগোপযোগী ও আয় সৃজনীমূলক করা না হলে নব্য সাক্ষরদের অর্জিত সাক্ষরতা ধরে রাখা সম্ভব নয়। সর্বোপরি তাদের মানব সম্পদে পরিণত করাও সম্ভব নয়। এ বাসত্মবতাকে উপলব্ধি করে সরকার তৎকালীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীনে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ১৫-৪৫ বছর বয়সের নব্য সাক্ষর ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হতে ঝরে পড়া  নারী-পুরম্নষদের জন্য ‘‘মানব উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রকল্প-১’’ এবং এডিবি ও এসডিসি এর অর্থায়নে ১১-৪৫ বছর বয়সের নব্য সাক্ষর ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হতে ঝরে পড়া নারী-পুরম্নষদের জন্য ‘‘মানব উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রকল্প-২’’ নামে দু’টি প্রকল্প গ্রহণ করে যা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতাধীনে বাসত্মবায়িত হয়েছে এবং বর্তমানে হচ্ছে।

 

মানব উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রকল্প-২ (পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্প)ঃ

দেশের ২৯টি জেলার ২১০টি উপজেলাতে বে-সরকারি সংস্থার সহযোগিতায় পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কর্মসূচি বাসত্মবায়িত হচ্ছে। প্রকল্প ভুক্ত জেলাগুলোকে ৩টি ফেইজে ভাগ করে প্রকল্পটি বাসত্মবায়িত হচ্ছে। কুড়িগ্রাম জেলা ৩য় ফেইজের অমত্মর্ভুক্ত জেলাগুলোর একটি।

 

পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্পের উদ্দেশ্যঃ

১।  প্রকল্পভুক্ত জেলাগুলোর ১১-৪৫ বছর বয়সের ১৬ লক্ষনব্য সাক্ষরকে সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ট্রেডে কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে দক্ষমানব সম্পদে পরিণতকরে অধিক আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করা, তাদেরকে প্রদীপ্ত ও উৎপাদনশীল নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলা যাতে তারা নিজেরা স্বাবলম্বী হয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে;

২।  মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা;

৩।  সমাজে জীবন ব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে এর গুরম্নত্ব প্রতিষ্ঠা করা;

৪।  লিঙ্গ বৈষম্য দূর করে নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সামাজিক সমতা স্থাপন করা।

 

মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচি বাসত্মবায়ন কৌশলঃ

মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচি বাসত্মবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে প্রতিটি জেলার জন্য একটি দক্ষ, অভিজ্ঞ ও যোগ্য বে-সরকারি সংস্থা নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত বে-সরকারি সংস্থা সরকারের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনের পর মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচি বাসত্মবায়ন করে। কর্মসূচি বাসত্মবায়নকারী সংস্থা ইচ্ছা করলে এক বা একাধিক সহযোগী সংস্থার সহযোগিতায় মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচি বাসত্মবায়ন করতে পারে। তবে ঐ সকল সহযোগী সংস্থার নাম বাসত্মবায়নকারী সংস্থা কর্তৃক RFP দাখিলের সময়ই প্রসত্মাব করতে হয়। RFP তে সহযোগী সংস্থার নাম উলেস্নখ না থাকলে পরবর্তীতে আর এ সুযোগ থাকে না।

 

মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচি বাসত্মবায়নের পূবেই কর্মসূচি বাসত্মবায়নকারী সংস্থা কর্তৃক কর্ম এলাকায় জরীপের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, সহায়ক/সহায়িকা, সম্ভাব্য ট্রেডের চাহিদা, ট্রেড প্রশিক্ষক, শিক্ষার্থীর ঘনত্বের ভিত্তিতে শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের স্থান নির্বাচনসহ যাবতীয় প্রস্ত্ততি সম্পন্ন করা হয়। প্রকল্পের প্রতিটি সাইকেলে সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা কোর্সের মেয়াদ ৯ মাস। প্রতিটি সাইকেলে প্রতিটি কেন্দ্রে ৩০ জন পুরম্নষ ও ৩০ জন মহিলা শিক্ষার্থী সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা কোর্সে শিক্ষা লাভের সুযোগ পায়। শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সপ্তাহে ৬ দিন প্রতিদিন ২ ঘন্টা করে পাঠদান করা হয়। এর মধ্যে ২দিন সাক্ষরতা উত্তর কোর্স এবং ৪ দিন অব্যাহত শিক্ষা কোর্স পরিচালিত হয়। সাক্ষরতা উত্তর পর্বে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সাক্ষরতা দক্ষতাকে উন্নত, পরিশীলিত ও ব্যবহার উপযোগী করার ব্যবস্থা রয়েছে। এ জন্য সাক্ষরতা উত্তর কোর্সে শিক্ষার্থীরা আমাদের চেতনা ২য় খন্ড বই, অনুসারক বই, দৈনিক পত্রিকা, খাতা, কলম ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের অর্জিত সাক্ষরতার চর্চা করে থাকে। এর পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষা কেন্দ্রের প্রতিটি শিফটে তথ্যাভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জীবন ঘনিষ্ঠ ২০ টি ইস্যু ভিত্তিক আলোচনার ব্যবস্থা রয়েছে। অব্যাহত শিক্ষা কোর্সে শিক্ষার্থীদের চাহিদা মোতাবেক নির্বাচিত ট্রেডে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। যাতে তারা লব্ধ প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটিয়ে নিজের পরিবারের, সমাজের এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জন্য শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে খেলার সামগ্রীর পাশাপাশি রেডিও এবং &&টলিভিশনও রয়েছে। মহিলা শিফট মহিলা সহায়িকার মাধ্যমে দিনের বেলা এবং পুরম্নষ শিফট পুরম্নষ সহায়কের মাধ্যমে সন্ধ্যার পর পর পরিচালিত হয়। মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচি বাসত্মবায়নের জন্য কর্মসূচি বাসত্মবায়নকারী সংস্থার প্রতি ১৭টি শিক্ষা কেন্দ্রের জন্য ১ জন সুপারভাইজার, প্রতি ৫০ টি বা তার অধিক সংখ্যক শিক্ষা কেন্দ্রের জন্য এক জন মাস্টার ট্রেইনার, প্রতি উপজেলাতে ১ জন ইউপিসি এবং জেলা পর্যায়ে ১ জন ডিপিসি দায়িত্ব পালন করে।

 

লিংকেজ কার্যক্রমঃ

প্রতিটি সাইকেলে সফলভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ঋণ প্রদানকারী সংস্থা, চাকুরী প্রদানকারী ব্যক্তি/সংস্থা, ব্যাংক ও অধিকতর দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদানকারী সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে দেওয়া হয়। যাতে তারা লব্ধ প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটিয়ে নিজের পরিবারের, সমাজের এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়।

 

শিক্ষা কেন্দ্র স্থায়ীকরণঃ

প্রকল্পের মেয়াদ শেষে প্রতিটি শিক্ষা কেন্দ্রের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার উদ্দেশ্যে প্রতিটি সাইকেলে প্রতিটি শিক্ষা কেন্দ্রের জন্য ৫০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা করে কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটির হিসাব নম্বরে স্থায়ী জামানত হিসাবে জমা রাখার জন্য প্রকল্প বরাদ্দ রয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে স্থায়ী জামানতের অর্থের লভ্যাংশের অর্থ দিয়ে কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটির সহযোগিতায় এটিকে রিসোর্স সেন্টার হিসাবে গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের সাক্ষরতার চর্চাকে অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।

 

মনিটরিং পার্টনার এজেন্সি (MOPA)t

মাঠ পর্যায়ের কর্মসূচি মনিটরিং এর জন্য প্রতিটি বিভাগে একটি করে মনিটরিং পার্টনার এজেন্সি নিয়োজিত আছে। প্রতিটি জেলা জন্য মনিটরিং পার্টনার এজেন্সির জেলা পর্যায়ে একজন জেলা মনিটরিং সুপারভাইজার ও উপজেলা পর্যায়ে এসেসোরগন মনিটরিং এর দায়িত্ব পালন করে।

 

বিভিন্ন কমিটিঃ

শিক্ষা কেন্দ্রের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য প্রতিটি শিক্ষা কেন্দ্রে ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটি রয়েছে। সাক্ষরতা ও অব্যাহত শিক্ষা কোর্সের অগ্রগতি পর্যালোচনা, সমস্যা চিহ্নিতকরণ, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদানের জন্য উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কমিটি এবং জেলা পর্যায়ে জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কমিটি রয়েছে। কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটি ও উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষেমাঠ পর্যায়ের সার্বিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। এ জন্য প্রতিটি কমিটির সভা প্রতিমাসে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়। প্রয়োজনে বিশেষ সভাও অনুষ্ঠিত হয়।

 

কুড়িগ্রাম জেলাতে বে-সরকারী সংস্থার সহয়োগিতায় বাসত্মবায়িত পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্পের বিবরণঃ

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতাধীনে বাসত্মবায়িত পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্পের বাসত্মবায়নকারী সংস্থা হিসাবে কুড়িগ্রাম জেলাতে ‘রিসডা-বাংলাদেশ’ নামক একটি বে-সরকারি সংস্থা মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচি বাসত্মবায়ন করছে। এ জেলাতে ‘রিসডা-বাংলাদেশ’ এর কোন সহযোগী সংস্থা নাই। প্রকল্পের মনিটরিং পার্টনার এজেন্সি হিসাবে ‘পাথ মার্ক এসোসিয়েটস লিঃ’ নামক সংস্থা কাজ করছে। ‘রিসডা-বাংলাদেশ’ কর্তৃক প্রতিটি উপজেলাতে ৩৪টি করে জেলার ৯টি উপজেলাতে সর্বমোট ৩০৬টি শিক্ষা কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। ৩য় ফেইজের জেলা হিসাবে কুড়িগ্রাম জেলাতে পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্পে মোট ৩টি সাইকেলে মাঠ পর্যায়ের কর্মসূচি বাসত্মবায়িত হবে। প্রতিটি সাইকেলের মেয়াদ ৯ মাস। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হ’ল ৩টি সাইকেলে জেলার ১১-৪৫ বছর বয়সের নব্য সাক্ষর ও প্রাতিষ্ঠানিক  শিক্ষা হতে ঝরে পড়া সুবিধা বঞ্চিত ২৭,৫৪০ জন পুরম্নষ ও ২৭,৫৪০ জন মহিলাসহ সর্বমোট ৫৫,০৮০ জন পুরম্নষ ও মহিলাকে কারিগরি দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষমানব সম্পদে পরিনত করা; যাতে তারা  গৃহিত প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে অধিক আয়ের ব্যবস্থা করে নিজেদের জীবন যাত্রার মান ঊন্নয়ন ঘটিয়ে সমাজে প্রদীপ্ত ও ঊৎপাদনশীল নাগরিক হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে। সেই সাথে দেশের সার্বিক ঊন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে। নভেম্বর ২০০৯ এ কুড়িগ্রাম জেলাতে প্রকল্পটির মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম শুরম্ন হয়েছে। ইতোমধ্যেই জানুয়ারী ২০১২ পর্যমত্ম কুড়িগ্রাম জেলাতে ১ম ও ২য় সাইকেলের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। ১ম ও ২য় সাইকেলের মাধ্যমে ১৮,৩৬০ জন পুরম্নষ ও ১৮,৩৬০ জন মহিলাসহ সর্বমোট ৩৬,৭২০ জন পুরম্নষ ও মহিলাকে সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে দর্জিবিজ্ঞান, মৎস্য চাষ, পশুপালন, নার্সারী, রিকসা-ভ্যান মেরামত, চক সাবান ও মোমবাতি তৈরীসহ মোট ১০টি ট্রেডে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব জনাব এম, এম, নিয়াজউদ্দিন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক জনাব মোঃ আলমগীর ও পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক জনাব এম, এ মান্নান হাওলাদার উপস্থিত থেকে গত  ০১/০৬/২০১২ খ্রিঃ তারিখ হতে একযোগে ৩য় সাইকেলের মাঠ পর্যায়ের সকল শিক্ষা কেন্দ্র চালু করেন। বর্তমানে ৩য় সাইকেলে সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে আরো ৯,১৮০ জন পুরম্নষও ৯,১৮০ জন মহিলাসহ সর্বমোট ১৮,৩৬০ জন পুরম্নষ ও মহিলাকে বিভিন্ন ট্রেডে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদানের কার্যক্রম চলছে। ১ম ও ২য় সাইকেলে সফলভাবে বিভন্ন ট্রেডে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী ১২,৭২৫ জন পুরম্নষ ও ১৩,৫৯৭ জন মহিলাসহ সর্বমোট ২৬,৩২২ জনকে বিভিন্ন ঋণ প্রদানকারী সংস্থা, চাকুরী প্রদানকারী ব্যক্তি/সংস্থা, ব্যাংক ও অধিকতর দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদানকারী সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে দিয়ে তাদের আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করা হয়েছে। এতে তাদের মাসিক আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় একদিকে যেমন নিজেদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে অন্যদিকে তেমনি তাদের পারিবারিক জীবনে সুখ-শামিত্ম বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

মাঠ পর্যায়ে পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্পের সফল বাসত্মবায়নের অমত্মরায় ও তা সমাধানের সম্ভাব্য উপায়ঃ

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতাধীনে বাসত্মবায়িত পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্পের শিক্ষার্থীদের জন্য কেবলমাত্র বিভিন্ন ট্রেডে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রকল্প হতে কোন আর্থিক ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা নাই। প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে লব্ধ প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীল হতে হলে শিক্ষার্থীদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সহজ শর্তে আর্থিক ঋণ সুবিধা থাকা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা তাদের লব্ধ দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অর্থাভাবে কাজে লাগাতে না পারলে তা ধীরে ধীরে ভূলে যায়। ফলে এ প্রশিক্ষণ আর তাদের কোন কাজে আসে না। তাছাড়া বিভিন্ন ট্রেডে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদানের পর শুধুমাত্র লিংকেজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভশীল হওয়ার পথ দেখানো অত্যমত্ম কঠিন কাজ। সরকারের অন্যান্য দপ্তরে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদানের পর আর্থিক ঋণ সহায়তাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থাকলেও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার কোন প্রকল্পেই এ ধরণের কোন সুযোগ নাই। তাছাড়া প্রত্যমত্ম গ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন ট্রেডে যোগ্য প্রশিক্ষক খুঁজে পাওয়া অত্যমত্ম কঠিন বিষয়। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বশিক্ষায় শিক্ষিত প্রশিক্ষকের উপরই নির্ভর করতে হয়। সঙ্গত কারণেই শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ কারণেই উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রতি উপজেলাতে প্রশিক্ষণ সেন্টার/রিসোর্স সেন্টার স্থাপন করে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার নিজস্ব প্রশিক্ষক তৈরীর ব্যবস্থা করা একামত্ম প্রয়োজন। তাহলে হয়ত আগামীতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে আর কোন বাধা থাকবেনা। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার সকল শিক্ষার্থীই সমাজের সুবিধা বঞ্চিত ও অবহেলিত নারী-পুরম্নষ। তাদের প্রত্যাশা আগামীতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন ট্রেডে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে দক্ষমানব সম্পদ হিসাবে গডে তোলার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তারা যাতে লব্ধ প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে সহজেই আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটিয়ে নিজের পরিবারের, সমাজের এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয় সে জন্য সরকার প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ শর্তে আর্থিক ঋণ সুবিধার বিষয়টিও গুরম্নত্বের সাথে বিবেচনা করবে। এটা করা সম্ভব হলে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে আগামীতে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত ও অবহেলিত নারী-পুরম্নষদেরকে দক্ষমানব সম্পদে পরিণত করে তাদেরকে প্রদীপ্ত ও উৎপাদনশীল নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সেইসাথে তারা নিজেরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে স্বনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে সরাসরি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যায়।

           

     (কামাল আহ্মদ)

     সহকারী পরিচালক

                                                                                                                            জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো

         কুড়িগ্রাম।

 

 

 

এক নজরে কুড়িগ্রাম জেলাতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতাধীনে বাসত্মবায়িত ‘‘পিএলসিইএইচডি-২’’ প্রকল্পের তথ্যঃ

 

 

সাধারণ তথ্যাবলীঃ

 

০১। জেলার নাম                                                     : কুড়িগ্রাম।

০২। জেলার আয়তন                                                 : ২২৯৬.১০ বর্গ কিলোমিটার।

০৩। মোট লোক সংখ্যা                                              : ২০,৬৯,২৭৩ জন (পুরুষ- ১০,১০,৪৪২জন, মহিলা- ১০,৫৮,৮৩১ জন) (বিবিএস ২০১১।

০৪। ১১-৪৫ বছর বয়সের মোট নিরক্ষর সংখ্যা                    : ৬,২৩,৮৭৪ জন (পুরম্নষ- ২,৭২,৫৮৮জন, মহিলা- ৩,৫১,০১৯ জন)।

০৫। পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্পের আওতাভুক্ত শিক্ষার্থী            : ৫৫,০৮০ জন (পুরম্নষ- ২৭,৫৪০ জন, মহিলা- ২৭,৫৪০ জন)।

০৬। পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্প বহির্ভুত নিরক্ষর সংখ্যা          : ৫,৬৮,৭৯৪ জন (পুরম্নষ- ২,৪৫,০৪৮ জন, মহিলা- ৩,২৩,৪৭৯ জন)।

০৭। উপজেলার সংখ্যা                                              : ৯টি।

০৮। ইউনিয়ন সংখ্যা                                                : ৭২টি।

০৯। পৌরসভার সংখ্যা                                              : ০৩টি।

১০। সাক্ষরতার হার                                                 : ৪২.৫০% (পুরুষ- ৪৬.৫০%, মহিলা-৩৮.৮০%) (বিবিএস ২০১১)।

১১। শিক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা                                           : ৩০৬টি।

১২। ১ম ও ২য় সাইকেলে কোর্স সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা     : ৩২,১৩৩ জন (পুরম্নষ- ১৫,৮১৩ জন, মহিলা-১৬,৩২০ জন)।

১৩। ৩য় সাইকেলের আওতাভুক্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা                : ১৮,৩৬০ জন ( পুরম্নষ-৯,১৮০ জন, মহিলা-৯,১৮০জন)।

১৪। সহায়ক/সহায়িকার সংখ্যা                                    : ৬১২ জন(সহায়ক-৩০৬জন, সহায়িকা-৩০৬জন)।

১৫। সুপারভাইজার                                                  :  ১৮জন।

১৬। ইউপিসি                                                        :  ৯জন।

১৭। মাস্টার ট্রেইনার                                                 : ৬জন।

১৮। এসেসোর                                                        : ৪জন।

১৯। ডিপিসি                                                          : ১জন।

২০। ডিএমএস                                                        : ১জন।

২১। কর্মসূচি বাসত্মবায়নকারী সংস্থা                                :  রিসডা-বাংলাদেশ, ঢাকা।

২২। মনিটরিং পার্টনার এজেন্সি                                      : পাথমার্ক এসোসিয়েটস্ লিঃ, ঢাকা।

 

 

 

এক নজরে কুড়িগ্রাম জেলাতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতাধীনে বাসত্মবায়িত পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্পের নিজস্ব জলবল সংক্রামত্ম তথ্য ছকঃ

 

পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্পে সরাসরি নিয়োজিত জেলা কার্যালয়ের নিজস্ব জনবলঃ

 

ক্রঃ নং

 

পদের নাম

পদমর্যাদা

পদের সংখ্যা

মমত্মব্য

০১।

 

প্রজেক্ট অফিসার

প্রথম শ্রেণী

০১ জন

 

০২।

 

সহকারী প্রজেক্ট অফিসার

দ্বিতীয় শ্রেণী

০১ জন

 

০৩।

 

এম এল এস এস

চতুর্থ শ্রেণী

০১ জন

 

মোট=

 

 

 

০৩ জন